আমি অচেনা মানুষের মাঝখানে একা কাঁদছিলাম।
প্রতি শুক্রবার প্রায় সাতবছর ধরে আমার দাদির সাথে আমি বিভিন্নও জায়গায় যাই আর আমি মানুষকে জিজ্ঞেস করি, আপনি কি জানেন আমি কে ?
কয়েকদিন থেকে আমি ক্লান্ত বোধ করলাম এবং তাকে ফিরে আসতে বললাম, বললাম দরকার নেই।
কিন্তু সে সবসময় আমাকে ধরে রাখে, আমার কপালে চুমু খেয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করে আরও মানুষকে প্রশ্ন করতে। বেশিরভাগ দিন আমাদের কাছে কাছে খাবার জন্য চালের সাথে কাচা
মরিচ থাকে।
আমার দাদী ভিক্ষুক, তার গুরুতর হাঁটুর ব্যথা আছে। তিনি তার হাটার জন্য একটি কাঠের লাটি তৈরি করেছিলেন এবং মাঝে মাঝে আমি ভিক্ষা করার সময় তার সমস্ত পথ
ধাক্কা দিয়ে, ধরে ধরে নিয়ে গিয়েছিলাম।
তিনি ক্রমাগত আমাকে বলেছিলেন যে তিনি আমার বাবা-মাকে খুঁজে বের করতে চায়।যখন তিনি আমাকে বলেন যে
যখন তিনি আমার
বাবা-মাকে খুঁজে পাবে তখন তিনি আমাকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেবে তখন আমি ভীত হয়ে পরি। দাদি কোন ধারণা নেই যে আমি তার সঙ্গ কতটা পছন্দ করি, দাদি কি বুঝে না দাদি ছাড়া আমার কেও নেই। কিন্তু দাদি সবসময় আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমার কোথাও পরিবার আছে। আমি হারিয়ে গেছি।
আমি তিন বছর বয়সে হারিয়ে গিয়েছিলাম।আমার দাদী আমাকে রাস্তার পাশে দেখতে পেলেন,আমি
অচেনা
মানুষের মাঝখানে একা কাঁদছিলাম। কেউ বলতে পারেনি যে আমি কে ছিলাম এবং সকলেই আমাকে রাস্তায় একা রেখে চলে গিয়েছিল। তিনি আমাকে স্থানীয় মসজিদে নিয়ে যান এবং আমার সাথে সেখানে এক
সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা
করেছিলেন।
আমার আর
কিছু স্মরণে ছিল না
শুধুমাত্র মসজিদে যেখানে দাদি আমাকে তার সাথে প্রতি শুক্রবার যেতে বাধ্য করতেন।
আমার দাদি সুন্দরভাবে আমার কাপড়গুলো রেখেছিলেন, যখন আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম তখন আমি ওই কাপড়গুলা পরে ছিলাম। আমি তার সাথে মাইলের পর মাইল
হাঁটতে শুরু করি, মানুষকে জিজ্ঞাসা করি তারা আমাকে চিনে কিনা।
তিনি আমাকে স্কুলে পাঠিয়েছিলেন কিন্তু আমি ওই
জায়গাটিকে ঘৃণা করি যেখানে সবাই আমার হারিয়ে যাওয়া বাবা মা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে এবং আমি কিভাবে একজন ভিক্ষুকের দ্বারা লালিতপালিত হলাম তারা জিজ্ঞাসা করে।আমার পাঠ্য বইটিতে একটি প্রশ্ন ছিল
'তোমার বাবা কি করে?
আমি উত্তর দিলাম 'আমি জানি না'।
আমার শিক্ষক আমাকে লেখার জন্য শাস্তি দিয়েছিল।
তারপর থেকে আমি আর স্কুলে যেতেম না।
আমি আমার দাদী জন্য কাজ শুরু করি কারণ আমি চাইতাম না দাদি হাঁটু ব্যথা নিয়ে ভিক্কা করতে যাক। আমি চাই না
যখন মানুষ আমাদের দেখে
চিৎকার করে উঠে এখনি চলে যাও ।
একদিন আমার দাদী আমাকে খাওয়াছেন,আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম সে
কি আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে? তারপর তিনি কাঁদতে শুরু করলেন এবং উত্তর দিলেন আমি ছাড়া এই জগতে তার কেউ নেই। এর পরে থেকে আমি মানুশকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা বন্ধ করে দিলাম 'তুমি কি আমাকে চেন?'
আমি কাউকে জানতে চাই না,চিনতে চাই না। আমার দাদী আমার সবকিছু এবং আমি কেবল তাকে ভালভাবেই জানতে চাই,চিনতে চাই।-
আব্দুল্লাহ

Comments
Post a Comment